সমুদ্র বন্দরের মত অবকাঠামোগত সুবিধা থাকার পর ও তেমন বিনিয়োগ টানতে পারছে না মংলা ইপিজেড। বন্দরে জাহাজ আগমন হ্রাস , বিমান বন্দর, গ্যাস ও পানি সরবরাহ না থাকায় মুখ থুবড়ে পড়ছে এ ইপিজেড অথচ বিপুল সম্ভাবনা সামনে রেখে প্রায় ১২ বছর পূর্বে যাত্রা শুরু করে এই ইপিজেডটি।
মংলা বন্দর শিল্প এলাকায় ১শ ৯৯ দশমিক ৫৬ একর জায়গার ওপর মংলা ইপিজেড (এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন) স্থাপিত হয়। ১৯৯৮ সালের ২৫ মে আনুষ্ঠানিকভাবে মংলা ইপিজেড যাত্রা শুরু করে। এখানে রয়েছে মোট ১ শ ২৪টি প্লট । এর মধ্যে ৯০ টি প্লট বরাদ্দের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। তিন শ্রেনীতে বিভক্ত এই প্লটগুলোতে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে এখানে প্রায় ৫০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে। পোর্ট সংলগ্ন মংলা ইপিজেড স্থাপিত হওয়ায় দেশের অন্যান্য ইপিজেডের তুলনায় পোর্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে মংলা ইপিজেড খুবই সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। গত ১২ বছরে এখানে মাত্র ১২ টি শিল্প প্রতিষ্ঠানে গড়ে উঠলেও ৪ টি এখন বন্ধ। বর্তমানে চালু প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মসংস্থান হয়েছে ২’শ ৫০ জনের। এছাড়া আরো নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনের কাজ চলছে। মংলা ইপিজেড স্থাপন করা হয়েছে সম্ভাবনার দিক বিবেচনায় রেখে। আপাতত সুযোগ সুবিধা সীমিত হলেও এ সম্ভাবনা রয়েছে প্রচুর। সমুদ্র বন্দরের ৫’শ গজের মধ্যে শিল্প স্থাপন ও বিদেশে পন্য রপ্তানীর ক্ষেত্রে এত সুযোগ দেশের অন্য কোন ইপিজেডে নেই। তাছাড়া রপ্তানী মূখী পণ্যের কাঁচামালের ব্যাপক উৎস রয়েছে এ অঞ্চলে । ঢাকা, চট্টগ্রামসহ অন্যান্য ইপিজেডের তুলনায় অর্ধেক মূল্যে জমি বরাদ্দের সুযোগ থাকলেও দীর্ঘদিনে মংলা ইপিজেড পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি। মংলা ইপিজেডে পুঁজি বিনিয়োগের উৎসাহী করতে শিল্প প্লট ও কারখানা ভবনের ভাড়া ৫০ ভাগ হ্রাস করা হয়েছে। বিনিয়োগ কারীদের সাথে মত বিনিময় ও যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে কর্তৃপক্ষ। মংলা ইপিজেড কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারীরা ইপিজেড এলাকা পরির্দশন করে শিল্প কলকারখানা গড়ে তুলতে আগ্রহী। কিন্তু গ্যাস, বিমান বন্দর, পন্য পরিবহন ও বন্দরের বর্তমান অবস্থার জন্য বিনিয়োগকারীরা শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনে আগ্রহ হারাচ্ছে।##
০৭ আগস্ট, ২০০৯
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন